গরু সম্পর্কীয় একটি জটিল আপেক্ষিক বিশ্লেষণধর্মী অবতারনিকা

আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে গরু নামক চতুষ্পদ প্রাণীটি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। নিরীহ প্রাণী হিসেবে গরু সর্বজন স্মীকৃত। শুধুমাত্র বিশেষ মহ্ল যারা ‘কসাই’ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ব্যপারে দ্বিমত করে থাকেন। অদ্যাবধি দুই একটি ব্যাতিক্রম ছাড়া গরু চারপেয়ে প্রাণী হিসেবেই সহজলভ্য যার পিছন দিকে একটি লম্বা দড়ির ন্যায় লেজ রয়েছে। লেজের আগার চুলের রঙ চোখের পাপড়ির রঙের সংগে সামাঞ্জ্যাস্য পূর্ণ হয়ে থাকে।

আমাদের দেশের গ্রাম-গঞ্জে সচরাচর গরুর পালকে নদীর তীরে ঘাস খেতে দেখা যায়। নদীর প্রবাহমান জলধারার উচ্ছল গতির সৌন্দর্য আশেপাশের সবাইকে বিমোহিত করে।

বাংলাদেশের সৌন্দর্য লুকয়ায়িত এর প্রাণ উচ্ছল নদীগুলোর মাঝে। সৌন্দর্য একটি আপেক্ষীক ধারনা। আমরা সবাই কম বেশি সৌন্দর্যের সমঝদার। প্রেয়সীর শুধু একটি মন কাড়া হাসি অতলান্তিক জলধারায় নিজেকে নিমগ্ন করার উদগ্র বাসনার জন্ম দিতে পারে।

আমাদের দেশের সকল জলধারার জন্মই নিঃসীম হিমালয়ের গাংগোত্রী হিমবাহ হতে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারনে এই হিমবাহ গুলো গলা শুরু করেছে। যা আমাদের জন্য আতঙ্কজনক। বিশেষভাবে অজ্ঞ ব্যক্তিগনের একদল বলছেন যে এতে বাংলাদেশ ডুবে যাবে। অরেকদল যথারীতি ভিন্ন মত উপস্থাপন করেছেন। তাদের যুক্তি প্রেমের মরা জলে ডুবে না। এতো মানুষের ভালবাসার বাংলাদেশ। প্রতিদিন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা এই ভালবাসার প্রানান্তর বহিঃপ্রকাশ করে থাকে। কবি গুরু ঘটনা আগেই আঁচ করতে পেরে বলে গিয়েছেন, “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।“

আমরা সাধারনরা আছি চাপে। একে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতির সার্বক্ষনিক চাপ আছেই। পৃথুল ব্যক্তিদের মাত্রাতিরিক্ত মেদ জনিত হৃদযন্ত্রের উপর চাপ। সংগে উচ্চনিম্ন বৈচিত্র্যময় রক্তের চাপ। বাঙ্গালী নানা ধরনার চাপে পর্যদুস্ত। এমনকি খেলার মাঠেও চাপ এবং তা সামলানোর নানা ধরনের কৌশল নিয়ে আলোচনা। যেকোন খেলার আগে পরে দেখবেন খেলোয়ারি জীবনের ইতি টেনে চোখের কোনায় এবং গলায় বৈচিত্র্যপূর্ন চামড়ার ভাঁজ নিয়ে পরিপাটি জামা কাপড় পরিধান করে ‘ক্ষুদ্র-দুরালাপন’ হাতে নিয়ে হেন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে তাদের জ্ঞান গর্ভ বক্তব্য প্রদান পূর্বক আলোচনা করেন না।

আলোচনা আমাদের জীবনের এক আনন্দদায়ক অনুষংগ। বাঙ্গালী সব সহ্য করে নিবে মাথা পেতে কিন্তু কথা বলার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিবে। রাজনীতিবিদগন সবসম্য এই সুযোগটা নিয়ে থাকে। তাই ক্ষমতাসীনরা সবসময় আস্বস্থ করে থাকে আলোচনার দ্বার সবসময় খোলা আছে।


নববর্ষের যন্ত্রনা সিক্ত প্রথম প্রহর

ধানমন্ডি থেকে লেখছি।

আমার বাসার এক রুমে আমার প্রবীন সত্তর উর্দ্ধ পিতা যিনি কিছু কাল আগে হৃদরোগ জনিত অসুস্থতায় হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসলেন এবং আরেক রুমে আমার এক বছর দুই মাস বয়সী ভাতিজা ঘুমাচ্ছে।

রাত ১২ টার কিছু আগে থেকে আশেপাশে কোথা থেকে ভয়ংকর, উদ্দাম, উৎকট হিন্দী, ইংরেজী সঙ্গীত ধরনের কিছু একটার গুম গুম তার সংগে তারস্বরে চিৎকারের আওয়াজে আমার নিজেরই মাথা ধরে গিয়েছে। আমার বৃদ্ধ পিতা এবং শিশু ভাতিজার যে কি অবস্থা হতে পারে তা একমাত্র আল্লাহই বলতে পারে।

এ অত্যাচার কখন শেষ হবে কে জানে !

এই বিপদ-সংকুল, ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধ পরিবেশ থেকেই সবাইকে জানাচ্ছি নববর্ষের শুভেচ্ছা।

আশা করি এই প্রাথমিক উৎকট প্রহর গোটা বছরের প্রতিচ্ছবি নয়।


এই আনন্দ কই রাখি?

আহা ! কি আনন্দ আকাশে বাতাসে !
পাখি ডাকে ফুলে ফুলে
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।

এই আনন্দ আমি রাখি কই। দুই কুখ্যাত নরাধাম, পাপিষ্ঠ, মুসলমান নামের কলংক, খুনী, ধর্ষক, যুদ্ধাপরাধীকে জনগন ভোটের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে “তুই রাজাকার দূরে গিয়ে মর।

নির্বাচনের আগে এই রাজাকার গুষ্ঠী ‘যুদ্ধাপরাধী কিসের, মীমাংসিত ইস্য, দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই’ ইত্যাদি বড় বড় বাতচিত করে বাগড়ম্বর করে চলছিল।

জনগন শুধু দাতে দাত চেপে সহ্য করেছে। ভোটের ক্ষমতা যখন এসেছে তখনই তারা সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

“তুই রাজাকার
তুই যুদ্ধাপরাধী।
তুই দেশদ্রোহী।
তুই স্বাধীনতা বিরোধী।
তুই দেশ ছাড়।
তুই পাকিস্তানে গিয়ে তোর জারজ পিতাদের পা চাট।
বেরিয়ে যা শয়তানের চৌদ্দ খান্দান এই দেশে তোদের কোন স্থান নেই।”

অসাধারন আরেকটি খবর হচ্ছে মুজাহিদ ব্যাটা মাত্র ৬ হাজার ভোট পেয়েছে।
হাঃ হাঃ হাঃ
সাবাস বাঙ্গালী গর্জে উঠল আরেকবার।


নির্বাচন দিনের ভাবনা-১

“সৎ, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবো”- মোটামুটি এইছিলো যেই ভোটার কেই জিজ্ঞাস করা হয়েছে সেই এই উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো সততার প্রশ্ন ব্যাপক খবর নেয়ার দ্বারা কিঞ্চিত জানা গেলেও যোগ্যতা জানা বড়ই কঠিন।

এখনো ভোট দিতে যাই নাই। সকাল এগারোটা বাজে। চমৎকার রোদ ঝলমলে উজ্জ্বল দিন। প্রত্যাশার আলোতে উচ্ছল। আসবে কি সেই অনাগত শান্তির দিন? যেখানে একটি ইস্যু হবে সকলের প্রাণের দাবী, বিজয় হবে একজনের  — “বাংলাদেশ”।

জয়তু বাংলাদেশ।


কোন বিচার হবে না?

প্রথম আলোর বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়তে পড়তে আর ঠিক সহ্য হলো না। তাই কি-বোর্ড তুলে নিলাম।

কতো মানুষ নিজের চোখের সামনে ছেলের, ভাইএর, স্বামীর, দেবরের, ভাশুরের হত্যা হতে দেখেছে। অসহ্য যন্ত্রণা বুকে নিয়ে এখনো দিন কাটাচ্ছে।

কত নারী নিজ ঘরের মাঝে আপন পরিবাবের সামনে সম্ভ্রম হারিয়েছে। অত্যাচারিত হয়েছে।

এইসবের কোন বিচার হবে না? শুধু বড় বড় কথা শুনে যাবো আমরা? আমাদের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করে যাবে আমরা শুধু ঘুটি হয়ে যাবো?

সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের কাজ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। এই বার কিছু একটা হবে। কিন্তু হায় ! যখন দেখি এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার সাহেবও নমিনেশন নিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের দোরগোড়ায়। তখন আবার সন্দেহ, হতাশা আবার জাগ্রত হয় আবার ঘুটি হলাম মনে হয়। কারো মইয়ের ধাপ হলাম হয় তো।

কেনো সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতারা সস্তা রাজনৈতিক টিকিটের জন্য ছুটাছুটি করবেন?? একবার শুনেছিলাম ওনাদের আজ়ীবনের জন্য মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রির স্ট্যাটাস দেয়া হবে উনারা কোন রাজনৈতিক দল করবেন না। উনারা হবেন সমস্ত বাংলাদেশের। সবার।

এখন আমরা কাদের বিশ্বাস করবো যে যুধাপরাধী ইস্যুতে কোন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কোন উদ্দেশ্য নাই।

আর কতদিন আমরা যারা নিজেদের সব কিছু হারাল তাদের নিয়ে রাজনীতি করবো। কবে হবে বিচার? এভাবেই ছেড়ে দিবো আমরা? এতো হত্যা, এতো নির্জাতন, এতো ধ্বংস, এতো লুটপাট আমরা কোন বিচার পাব না? কবে ?


নিরন্তর ভালোবাসা

ছেলেটি ঠোট টিপে হাসছিলো।

পুরপরি অসচেতনতায় নিমগ্ন সে ছিলো না। সকচিত চাহনি ছুয়ে ছুয়ে যাচ্ছিলো উদ্দিপ্ত দু’জোড়া চোখ। সাধারন্যে বসবার স্থান সচরাচর যেখানে হয় বন্ধুদের আড্ডা। কিভাবে কে কার তার থেকে ছাপিয়ে উঠে একে অন্যের বিদ্যুতের তরঙ্গায়িত ঊপভোগ্য সান্নিধ্য। কথামালায় উচ্ছসিত চারপাশ। হাসির রোলে মাতোয়ারা দোকানের নিভৃত কোন।

তবুও ছেলেটি ঠোট টিপে হাসছিলো। চমৎকার করে বহু দিকনির্দেশনায় ছাটা চুল এবং ধোপ-দুরস্ত পোষাকে তাকে দেখাচ্ছে যাকে বলে “Well presented”. ধরে নেই তার নাম ‘ক’।

মেয়েটিরও যত্নে গড়া পিছল চুল এবং সপ্রতিভ উপস্থিতি যথেষ্ঠ আকর্ষণীয়া। আমরা এক্ষেত্রে অকৃপন হতে পারি। বর্নণায় আরো কিছু শব্দ যোগ করি। বাহ ! কি চমৎকার !

এরপরের ঘটনা বোধকরি সহজেই অনুনেয়। সকলেই বুঝে ফেলেছেন। আপন অভিজ্ঞতার ঝুলি কুড়িয়েছে কি কম?  দিনের শেষে মুঠোফোন নম্বর আদান প্রদানপূর্বক আনাগত সম্ভাবনায় দিনের আড্ডার পরিসমাপ্তি।

দিন যায় কথা হয় না। কে আগে ভাংগবে বুকের পাথর।

তবে আপনারা এই ভাববেন না যে মুঠোফোনে কথার আর্গল বুঝি ওদের বন্ধ ছিলো। তা কখনো হবার নয়। চলতি নিশি কথার সংগীর অভাব এই বয়সীদের কখনো হয় না। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছার ব্যক্ত ঘটানো।

এক প্রায় রাতে ভেঙ্গে যায় পাথর। বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মতো কথামালা দু’কূল ছাপিয়ে যায় রাতের পর রাত দিনের পর দিন। পাথর ভাঙ্গার সে গল্প না হয় আরেকদিন শুনা যাবে।

এখন এখানে ফ্লেক্সি হচ্ছে। রিচার্জ হচ্ছে। মোবাইল চার্জ হচ্ছে। হাসি হচ্ছে। টুকরো টুকরো কথার খেলা হচ্ছে। মান-অভিমান হচ্ছে। ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকা হচ্ছে। যেনো তৈরী হচ্ছে একটি ভ্যানগগের কানকাটা তৈল চিত্র অথবা মধূসুধনের সাগড়দাড়ির কাব্য।

একদিন কথার দিন ফুরাল এলো দেখার দিন।

এলো প্রজাপতির মতো ঘুরে বেড়ানোর দিন।

ফাষ্টফুড, রেস্তোরা, ক্যাফে, প্রদর্শণী, কেনা-কাটার শীতাতপ বাজার, তারা মার্কা সিনেমা হল। চষে বেড়ানো আর হ্যা কিছুটা স্থুল হলেও হলো চোয়ালের ব্যায়াম। রোগা মানিব্যাগ কখনো ঈষৎ স্ফীত পার্স নিরব কালের নিরবধি।

সম্পর্কের অবসম্ভাবিক ঊপাদানের অনুপস্তিথিতে কিছুটা অবাক হচ্ছেন কি?

যোগাযোগের প্রাচীনতম মাধ্যমের প্রতি আমাদের অবহেলায় বোধকরি মাধ্যমটিকে সওয়ার করেছে এখানে।

সাধারন কথায় তুচ্ছ বিষয়ে মান-অভিমানে। বিচিত্র থেকে বিচিত্রতর বিশেষ দিবসগুলোয় যার উপর যুগলদের অবলম্বন। ভিনদেশী প্রতিষ্ঠানের ভিনদেশী কথায় আবেগের বানিজ্যিক প্রকাশ। দোকান থেকে দোকানে। কার্ড থেকে কার্ডে।

সম্পর্ক স্থানান্তরিত উন্মুক্ত স্থান থেকে আবদ্ধ চার দেয়ালে। স্খলনে পতনের সাথে। উন্মত্ততায় মিথ্যের বেসাতীতে। কর্ষণে মন্থণে। প্রেমভাব অথবা অন্য কোন স্তরে।

তারপর একদিন কথা যায় থেমে নতুনের আবাহনে। অথবা বাস্তবতার ঘূরন্ত চাকায়। সময়ের ফেরীওয়ালা অসময়ে যায় চলে। নীরবে রয়ে যায় কিছু পালক ছেড়া সুখ, অকিঞ্চিত বেদনায়।  সে গল্পও না হয় আরেকদিন হবে।

আপনাদের মনে আছে ছেলেটির নাম দিয়েছিলাম ‘ক’। শূন্যতা নেমে আসে ক এর জীবনে। হাহাকার নিঃসীম বেদনা উড়িয়ে নেয় কাঁচের মৃদু ঝংকারে অথবা আবেশময় ঝাঁঝালো ধোয়ায়। তারপরও শূন্যতা। কিচ্ছু ভালো না লাগা।

মেয়েটির কোন নাম দেয়া হয় নাই। আচ্ছা ধরি ওর নাম ‘অ’। জানালার ধারে কোন দূরাগত প্রান্তরে চোখ রেখে জানালার বোকা শিকগুলোকে সঙ্গী করে অ এর অনন্তর শুধু চেয়ে থাকা।

কেটে যায় দিন হয়তবা মাস।

বহুদিন অথবা কিছু দিন পরে।

নীরব রাতে কে যেন মুঠোফোনের কথায় আঁধার রাতের গান গায় অ এর কানে।

হয়তো কোন অনুষ্ঠানে অথবা উন্মুক্ত স্থানে সকচিত চোখের তারা। হাসির অস্ফুট দু’এক ধ্বনি ভালোলাগার আবেশ জড়ানো। টুকরো টুকরো কথামালা।

ছেলাটির ঠোটে মুচকি হাসি। সকচিত দৃষ্টি ছুয়ে ছুয়ে যায় মেয়েটির চোখের তারা। ক এর ভালো লাগে ‘ম’ এর চোখ।

এই বেশ চলে যায় রাতের গান ভোরের শিশিরে সিক্ত হয়ে আমাদের নিরন্তর ভালোবাসায় ।


স্বাগতম !

সোনালী রদ্দুর যখন এসে পরে অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে। বেঁচে থাকা যখন শুধু মুঠিবদ্ধ আন্দোলন নয়। হায় শীতল বাতাস তুমি বয়ে যাও। আজ অনুভবের ক্ষণ। ক্ষত শুকানোর প্রহর। আন্দলিত শাখা শুধু কর্ষণের ফল নয়। অব্যক্ত বেদনা যখন প্রেরণা। কেবল তুমি আসবে বলে।

হে স্বাপ্নিক, স্বপ্ন দেখছ কি ?

আমার স্বপ্ন  গুলো

তুলোর বাক্সে বন্দী

সেই যে স্বপ্নের বুড়ী

কাছে আসবে বলে

Page copy protected against web site content infringement by Copyscape
free counters