Category Archives: ভাবনার কথাগুলো

তারার পানে চেয়ে…

“যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।”

যখন খুব ছোট ছিলাম। স্মৃতি যতদূর যায়, অলস দুপুরে এক মুখ হাসি নিয়ে স্বপ্নালু চোখে রিনরিনে মাধুরী মাখা কন্ঠস্বরের গাওয়া এই কটি লাইনের স্মৃতি আমার অন্তরের অন্তর্স্থলে জন্মান্তরের জন্য যেন প্রথিত। আমার আম্মার খালি গলার গায়কীতে হয়তো আজন্ম গাড় বিষাদের ছাপ আমার শিশু মনেও ছাপ ফেলতে সফল। আম্মার খুব প্রিয় লাইন ছিলো এগুলো। হয়তো এর মাঝে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি নিজের কাছে প্রতীয়মান হতো। সেই ছোট বেলা থেকেই যখনই আম্মার গলায় শুনেছি মনের মাঝে হাহাকার জন্ম নিতো। ক্ষয়িষ্ণু জীবনের আনাগত বিচ্ছেদের আশংকা হয়তো দানা বেধে উঠতো। জানি না মনের অবচেতনে কি খেলা হতো।

আজ নির্জণে বসে মনের কোণে উঠে আসে কত স্মৃতি! সত্যিই প্রতিটি শব্দ আজ কত সত্যি! আম্মাকে আমরা বলতাম কখনো এমন হবে না, তোমার চিন্তা ছাড়া আমাদের কোন মুহূর্ত কি কাটতে পারে? শয়নে, স্বপনে, জাগরনে প্রতিটি ক্ষণে, কষ্টের প্রতিটি ক্ষণে শুধু তুমি। আম্মা হয়তো মৃদু হেসে বলতো, তারপরেও জীবন ঠিকই চলে যাবে।

আজ তারার পানে চেয়ে সঙ্গী দু’চোখে অশ্রুর বন্যা আর অপার্থিব, অসহ্য হাহাকার, পাগল-প্রায় নিঃসঙ্গতা আর ডুকরে কেদে উঠা। আজ এই বাটে তোমার পদচিহ্ন আর না পড়লেও তোমাকে আমরা ধারণ করে আছি আমাদের স্বত্তা দিয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আর কি দেখা হবে না? তাই কি হয়! আর কি কথা হবে না? তাই কি হয়! কত কিছু বলবার আছে। কত কিছু জানাবার আছে। জীবনের তীব্র আন্ধকারের দিন কাটিয়েছি তোমার কথা ভেবে, তীব্র আলোর দিন কাটাবো তোমাকে সংগে নিয়ে।

  • আমি কখনও চিন্তা করি নাই আম্মাকে নিয়ে কিছু লিখতে পারবো। অনতিক্রমযোগ্য এ বেদনা আমার ধারণ ক্ষমতার বাইরে। বুকের চাপা ক্ষরণ স্বতত প্রবাহমান। আমার অস্তিত্ত্ব অনস্তিত্ত্বে বিলীয়মান…জানি না কেনো লিখলাম! এ জীবনের কতটুকুই আমরা জানি?

    Advertisements

    গরু সম্পর্কীয় একটি জটিল আপেক্ষিক বিশ্লেষণধর্মী অবতারনিকা

    আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে গরু নামক চতুষ্পদ প্রাণীটি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। নিরীহ প্রাণী হিসেবে গরু সর্বজন স্মীকৃত। শুধুমাত্র বিশেষ মহ্ল যারা ‘কসাই’ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ব্যপারে দ্বিমত করে থাকেন। অদ্যাবধি দুই একটি ব্যাতিক্রম ছাড়া গরু চারপেয়ে প্রাণী হিসেবেই সহজলভ্য যার পিছন দিকে একটি লম্বা দড়ির ন্যায় লেজ রয়েছে। লেজের আগার চুলের রঙ চোখের পাপড়ির রঙের সংগে সামাঞ্জ্যাস্য পূর্ণ হয়ে থাকে।

    আমাদের দেশের গ্রাম-গঞ্জে সচরাচর গরুর পালকে নদীর তীরে ঘাস খেতে দেখা যায়। নদীর প্রবাহমান জলধারার উচ্ছল গতির সৌন্দর্য আশেপাশের সবাইকে বিমোহিত করে।

    বাংলাদেশের সৌন্দর্য লুকয়ায়িত এর প্রাণ উচ্ছল নদীগুলোর মাঝে। সৌন্দর্য একটি আপেক্ষীক ধারনা। আমরা সবাই কম বেশি সৌন্দর্যের সমঝদার। প্রেয়সীর শুধু একটি মন কাড়া হাসি অতলান্তিক জলধারায় নিজেকে নিমগ্ন করার উদগ্র বাসনার জন্ম দিতে পারে।

    আমাদের দেশের সকল জলধারার জন্মই নিঃসীম হিমালয়ের গাংগোত্রী হিমবাহ হতে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারনে এই হিমবাহ গুলো গলা শুরু করেছে। যা আমাদের জন্য আতঙ্কজনক। বিশেষভাবে অজ্ঞ ব্যক্তিগনের একদল বলছেন যে এতে বাংলাদেশ ডুবে যাবে। অরেকদল যথারীতি ভিন্ন মত উপস্থাপন করেছেন। তাদের যুক্তি প্রেমের মরা জলে ডুবে না। এতো মানুষের ভালবাসার বাংলাদেশ। প্রতিদিন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা এই ভালবাসার প্রানান্তর বহিঃপ্রকাশ করে থাকে। কবি গুরু ঘটনা আগেই আঁচ করতে পেরে বলে গিয়েছেন, “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।“

    আমরা সাধারনরা আছি চাপে। একে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতির সার্বক্ষনিক চাপ আছেই। পৃথুল ব্যক্তিদের মাত্রাতিরিক্ত মেদ জনিত হৃদযন্ত্রের উপর চাপ। সংগে উচ্চনিম্ন বৈচিত্র্যময় রক্তের চাপ। বাঙ্গালী নানা ধরনার চাপে পর্যদুস্ত। এমনকি খেলার মাঠেও চাপ এবং তা সামলানোর নানা ধরনের কৌশল নিয়ে আলোচনা। যেকোন খেলার আগে পরে দেখবেন খেলোয়ারি জীবনের ইতি টেনে চোখের কোনায় এবং গলায় বৈচিত্র্যপূর্ন চামড়ার ভাঁজ নিয়ে পরিপাটি জামা কাপড় পরিধান করে ‘ক্ষুদ্র-দুরালাপন’ হাতে নিয়ে হেন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে তাদের জ্ঞান গর্ভ বক্তব্য প্রদান পূর্বক আলোচনা করেন না।

    আলোচনা আমাদের জীবনের এক আনন্দদায়ক অনুষংগ। বাঙ্গালী সব সহ্য করে নিবে মাথা পেতে কিন্তু কথা বলার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিবে। রাজনীতিবিদগন সবসম্য এই সুযোগটা নিয়ে থাকে। তাই ক্ষমতাসীনরা সবসময় আস্বস্থ করে থাকে আলোচনার দ্বার সবসময় খোলা আছে।


    নববর্ষের যন্ত্রনা সিক্ত প্রথম প্রহর

    ধানমন্ডি থেকে লেখছি।

    আমার বাসার এক রুমে আমার প্রবীন সত্তর উর্দ্ধ পিতা যিনি কিছু কাল আগে হৃদরোগ জনিত অসুস্থতায় হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসলেন এবং আরেক রুমে আমার এক বছর দুই মাস বয়সী ভাতিজা ঘুমাচ্ছে।

    রাত ১২ টার কিছু আগে থেকে আশেপাশে কোথা থেকে ভয়ংকর, উদ্দাম, উৎকট হিন্দী, ইংরেজী সঙ্গীত ধরনের কিছু একটার গুম গুম তার সংগে তারস্বরে চিৎকারের আওয়াজে আমার নিজেরই মাথা ধরে গিয়েছে। আমার বৃদ্ধ পিতা এবং শিশু ভাতিজার যে কি অবস্থা হতে পারে তা একমাত্র আল্লাহই বলতে পারে।

    এ অত্যাচার কখন শেষ হবে কে জানে !

    এই বিপদ-সংকুল, ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধ পরিবেশ থেকেই সবাইকে জানাচ্ছি নববর্ষের শুভেচ্ছা।

    আশা করি এই প্রাথমিক উৎকট প্রহর গোটা বছরের প্রতিচ্ছবি নয়।


    এই আনন্দ কই রাখি?

    আহা ! কি আনন্দ আকাশে বাতাসে !
    পাখি ডাকে ফুলে ফুলে
    আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।

    এই আনন্দ আমি রাখি কই। দুই কুখ্যাত নরাধাম, পাপিষ্ঠ, মুসলমান নামের কলংক, খুনী, ধর্ষক, যুদ্ধাপরাধীকে জনগন ভোটের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে “তুই রাজাকার দূরে গিয়ে মর।

    নির্বাচনের আগে এই রাজাকার গুষ্ঠী ‘যুদ্ধাপরাধী কিসের, মীমাংসিত ইস্য, দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই’ ইত্যাদি বড় বড় বাতচিত করে বাগড়ম্বর করে চলছিল।

    জনগন শুধু দাতে দাত চেপে সহ্য করেছে। ভোটের ক্ষমতা যখন এসেছে তখনই তারা সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

    “তুই রাজাকার
    তুই যুদ্ধাপরাধী।
    তুই দেশদ্রোহী।
    তুই স্বাধীনতা বিরোধী।
    তুই দেশ ছাড়।
    তুই পাকিস্তানে গিয়ে তোর জারজ পিতাদের পা চাট।
    বেরিয়ে যা শয়তানের চৌদ্দ খান্দান এই দেশে তোদের কোন স্থান নেই।”

    অসাধারন আরেকটি খবর হচ্ছে মুজাহিদ ব্যাটা মাত্র ৬ হাজার ভোট পেয়েছে।
    হাঃ হাঃ হাঃ
    সাবাস বাঙ্গালী গর্জে উঠল আরেকবার।


    নির্বাচন দিনের ভাবনা-১

    “সৎ, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবো”- মোটামুটি এইছিলো যেই ভোটার কেই জিজ্ঞাস করা হয়েছে সেই এই উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো সততার প্রশ্ন ব্যাপক খবর নেয়ার দ্বারা কিঞ্চিত জানা গেলেও যোগ্যতা জানা বড়ই কঠিন।

    এখনো ভোট দিতে যাই নাই। সকাল এগারোটা বাজে। চমৎকার রোদ ঝলমলে উজ্জ্বল দিন। প্রত্যাশার আলোতে উচ্ছল। আসবে কি সেই অনাগত শান্তির দিন? যেখানে একটি ইস্যু হবে সকলের প্রাণের দাবী, বিজয় হবে একজনের  — “বাংলাদেশ”।

    জয়তু বাংলাদেশ।


    কোন বিচার হবে না?

    প্রথম আলোর বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়তে পড়তে আর ঠিক সহ্য হলো না। তাই কি-বোর্ড তুলে নিলাম।

    কতো মানুষ নিজের চোখের সামনে ছেলের, ভাইএর, স্বামীর, দেবরের, ভাশুরের হত্যা হতে দেখেছে। অসহ্য যন্ত্রণা বুকে নিয়ে এখনো দিন কাটাচ্ছে।

    কত নারী নিজ ঘরের মাঝে আপন পরিবাবের সামনে সম্ভ্রম হারিয়েছে। অত্যাচারিত হয়েছে।

    এইসবের কোন বিচার হবে না? শুধু বড় বড় কথা শুনে যাবো আমরা? আমাদের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করে যাবে আমরা শুধু ঘুটি হয়ে যাবো?

    সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের কাজ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। এই বার কিছু একটা হবে। কিন্তু হায় ! যখন দেখি এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার সাহেবও নমিনেশন নিয়ে কোন রাজনৈতিক দলের দোরগোড়ায়। তখন আবার সন্দেহ, হতাশা আবার জাগ্রত হয় আবার ঘুটি হলাম মনে হয়। কারো মইয়ের ধাপ হলাম হয় তো।

    কেনো সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতারা সস্তা রাজনৈতিক টিকিটের জন্য ছুটাছুটি করবেন?? একবার শুনেছিলাম ওনাদের আজ়ীবনের জন্য মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রির স্ট্যাটাস দেয়া হবে উনারা কোন রাজনৈতিক দল করবেন না। উনারা হবেন সমস্ত বাংলাদেশের। সবার।

    এখন আমরা কাদের বিশ্বাস করবো যে যুধাপরাধী ইস্যুতে কোন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কোন উদ্দেশ্য নাই।

    আর কতদিন আমরা যারা নিজেদের সব কিছু হারাল তাদের নিয়ে রাজনীতি করবো। কবে হবে বিচার? এভাবেই ছেড়ে দিবো আমরা? এতো হত্যা, এতো নির্জাতন, এতো ধ্বংস, এতো লুটপাট আমরা কোন বিচার পাব না? কবে ?


    স্বাগতম !

    সোনালী রদ্দুর যখন এসে পরে অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে। বেঁচে থাকা যখন শুধু মুঠিবদ্ধ আন্দোলন নয়। হায় শীতল বাতাস তুমি বয়ে যাও। আজ অনুভবের ক্ষণ। ক্ষত শুকানোর প্রহর। আন্দলিত শাখা শুধু কর্ষণের ফল নয়। অব্যক্ত বেদনা যখন প্রেরণা। কেবল তুমি আসবে বলে।

    হে স্বাপ্নিক, স্বপ্ন দেখছ কি ?

    আমার স্বপ্ন  গুলো

    তুলোর বাক্সে বন্দী

    সেই যে স্বপ্নের বুড়ী

    কাছে আসবে বলে

    Page copy protected against web site content infringement by Copyscape
    free counters