Monthly Archives: জানুয়ারি 2011

তারার পানে চেয়ে…

“যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।”

যখন খুব ছোট ছিলাম। স্মৃতি যতদূর যায়, অলস দুপুরে এক মুখ হাসি নিয়ে স্বপ্নালু চোখে রিনরিনে মাধুরী মাখা কন্ঠস্বরের গাওয়া এই কটি লাইনের স্মৃতি আমার অন্তরের অন্তর্স্থলে জন্মান্তরের জন্য যেন প্রথিত। আমার আম্মার খালি গলার গায়কীতে হয়তো আজন্ম গাড় বিষাদের ছাপ আমার শিশু মনেও ছাপ ফেলতে সফল। আম্মার খুব প্রিয় লাইন ছিলো এগুলো। হয়তো এর মাঝে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি নিজের কাছে প্রতীয়মান হতো। সেই ছোট বেলা থেকেই যখনই আম্মার গলায় শুনেছি মনের মাঝে হাহাকার জন্ম নিতো। ক্ষয়িষ্ণু জীবনের আনাগত বিচ্ছেদের আশংকা হয়তো দানা বেধে উঠতো। জানি না মনের অবচেতনে কি খেলা হতো।

আজ নির্জণে বসে মনের কোণে উঠে আসে কত স্মৃতি! সত্যিই প্রতিটি শব্দ আজ কত সত্যি! আম্মাকে আমরা বলতাম কখনো এমন হবে না, তোমার চিন্তা ছাড়া আমাদের কোন মুহূর্ত কি কাটতে পারে? শয়নে, স্বপনে, জাগরনে প্রতিটি ক্ষণে, কষ্টের প্রতিটি ক্ষণে শুধু তুমি। আম্মা হয়তো মৃদু হেসে বলতো, তারপরেও জীবন ঠিকই চলে যাবে।

আজ তারার পানে চেয়ে সঙ্গী দু’চোখে অশ্রুর বন্যা আর অপার্থিব, অসহ্য হাহাকার, পাগল-প্রায় নিঃসঙ্গতা আর ডুকরে কেদে উঠা। আজ এই বাটে তোমার পদচিহ্ন আর না পড়লেও তোমাকে আমরা ধারণ করে আছি আমাদের স্বত্তা দিয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আর কি দেখা হবে না? তাই কি হয়! আর কি কথা হবে না? তাই কি হয়! কত কিছু বলবার আছে। কত কিছু জানাবার আছে। জীবনের তীব্র আন্ধকারের দিন কাটিয়েছি তোমার কথা ভেবে, তীব্র আলোর দিন কাটাবো তোমাকে সংগে নিয়ে।

  • আমি কখনও চিন্তা করি নাই আম্মাকে নিয়ে কিছু লিখতে পারবো। অনতিক্রমযোগ্য এ বেদনা আমার ধারণ ক্ষমতার বাইরে। বুকের চাপা ক্ষরণ স্বতত প্রবাহমান। আমার অস্তিত্ত্ব অনস্তিত্ত্বে বিলীয়মান…জানি না কেনো লিখলাম! এ জীবনের কতটুকুই আমরা জানি?

    Advertisements