Monthly Archives: অক্টোবর 2010

প্রাচীনতায় বন্দী প্রহর ১ম পর্ব

১ম পর্বঃ

“তখন আমার বাবা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী”, বলে দুধ চিনি ছাড়া কড়া রঙ চা এর কাপে সুড়ুক করে এক চুমুক দিয়ে ভদ্রলোক নড়েচড়ে বসলো। পুরনো রি-ভলভিং চেয়ারের মটমট প্রতিবাদকে বিন্দুমাত্র গ্রাহ্য না করে ভদ্রলোক বেশ আয়েশ করে হেলান দিয়ে অর্ধ-শতাব্দী প্রাচীন কৌলিন্যের গল্প শুনানোর আনাগত আনন্দে কিছুটা বিভর।

ঘরের মাঝে চাপা গুমোট পরিবেশ। ভাদ্রের চটচটে আঠালো দিন। মাথার ঊপর বৃদ্ধ সিলিং ফ্যানটি বন্ধ। ভদ্রলোক এক বাহারী নামের অধিকারীঃ জনাব সৈয়দ শামসুল মোমিন চৌধুরী, কৃত্রিম বাতাস পছন্দ করেন না। তাই এই কুক্কুরি পাগলের দিনেও চাপ চাপ ভ্যাপসা গরমের মাঝে কূল কূল করে ঘেমে চলেছি।

“ইন দ্যা ইয়ার নাইন্টিন ফিফটি ওয়ান”, বলে চৌধুরী সাহেব তার প্রাচীন গল্পের কথা মালার সুতায় আবার টান দিয়েছেন। বুঝে ফেললাম কঠিন এক গ্যাড়াকলে পড়েছি। এই ধরনের কিছু প্রাচীন বৃদ্ধ আছে যাদের প্রাগৈতিহাসিক আনন্দের গর্বের গল্পের ঝাঁপি নিয়ে ওৎ পেতে বসে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়।

আমি হতাশ হয়ে রুমের এদিক-ওদিক তাকালাম। দেয়াল এবং ছাদ সাদা চুনকাম করা। অতিথিদের জন্য বয়সের কারনে ন্যুজ তিনটি কাঠের চেয়ার রয়েছে। যার একটিতে শিরঃদাড় সোজা করে বসে আছি। আমাদের মাঝে ক্ষুদ্রাকৃতির একটি টেবিল রয়েছে। মনে হলো যেন ঘরের সময় স্থির হয়ে আছে সেই ষাটের দশকে। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে মোটামুটি আঁতকে উঠলাম একটি মিটসেফ জাতীয় আসবাব দেখে। কমকরে হলেও ১৫/২০ বছর আগে মা-খালারা এই জাতীয় জিনিসের মধ্যে খাবার রাখতেন যার স্থান ছিলো রান্নাঘরে, যা কোনক্রমেই একটি অফিস ঘরে হতে পারে না। এথচ এই ভদ্রলোক হলেন একটি ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যাস্থাপনা পরিচালক এবং এই ঘুপচি ঘরটি হল তাঁর ব্যক্তিগত অফিস কক্ষ।

ভদ্রলোক আমার বাবার পরিচিত সেই সুত্রে আমার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে উনার কাছে আসা। বাবাকে উনি অসম্ভব পছন্দ করেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হচ্ছে বিস্তর ইতিহাসের জ্ঞান আহরনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

দূর্বল চেয়ারটির উপর গ্যাট হয়ে বসে অনাগত ক্লান্তিকর দীর্ঘ সময়ের জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম।

(চলবে…)