স্বাগতম !

সোনালী রদ্দুর যখন এসে পরে অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে। বেঁচে থাকা যখন শুধু মুঠিবদ্ধ আন্দোলন নয়। হায় শীতল বাতাস তুমি বয়ে যাও। আজ অনুভবের ক্ষণ। ক্ষত শুকানোর প্রহর। আন্দলিত শাখা শুধু কর্ষণের ফল নয়। অব্যক্ত বেদনা যখন প্রেরণা। কেবল তুমি আসবে বলে।

হে স্বাপ্নিক, স্বপ্ন দেখছ কি ?

আমার স্বপ্ন  গুলো

তুলোর বাক্সে বন্দী

সেই যে স্বপ্নের বুড়ী

কাছে আসবে বলে

Page copy protected against web site content infringement by Copyscape
free counters

Advertisements

তারার পানে চেয়ে…

“যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।”

যখন খুব ছোট ছিলাম। স্মৃতি যতদূর যায়, অলস দুপুরে এক মুখ হাসি নিয়ে স্বপ্নালু চোখে রিনরিনে মাধুরী মাখা কন্ঠস্বরের গাওয়া এই কটি লাইনের স্মৃতি আমার অন্তরের অন্তর্স্থলে জন্মান্তরের জন্য যেন প্রথিত। আমার আম্মার খালি গলার গায়কীতে হয়তো আজন্ম গাড় বিষাদের ছাপ আমার শিশু মনেও ছাপ ফেলতে সফল। আম্মার খুব প্রিয় লাইন ছিলো এগুলো। হয়তো এর মাঝে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি নিজের কাছে প্রতীয়মান হতো। সেই ছোট বেলা থেকেই যখনই আম্মার গলায় শুনেছি মনের মাঝে হাহাকার জন্ম নিতো। ক্ষয়িষ্ণু জীবনের আনাগত বিচ্ছেদের আশংকা হয়তো দানা বেধে উঠতো। জানি না মনের অবচেতনে কি খেলা হতো।

আজ নির্জণে বসে মনের কোণে উঠে আসে কত স্মৃতি! সত্যিই প্রতিটি শব্দ আজ কত সত্যি! আম্মাকে আমরা বলতাম কখনো এমন হবে না, তোমার চিন্তা ছাড়া আমাদের কোন মুহূর্ত কি কাটতে পারে? শয়নে, স্বপনে, জাগরনে প্রতিটি ক্ষণে, কষ্টের প্রতিটি ক্ষণে শুধু তুমি। আম্মা হয়তো মৃদু হেসে বলতো, তারপরেও জীবন ঠিকই চলে যাবে।

আজ তারার পানে চেয়ে সঙ্গী দু’চোখে অশ্রুর বন্যা আর অপার্থিব, অসহ্য হাহাকার, পাগল-প্রায় নিঃসঙ্গতা আর ডুকরে কেদে উঠা। আজ এই বাটে তোমার পদচিহ্ন আর না পড়লেও তোমাকে আমরা ধারণ করে আছি আমাদের স্বত্তা দিয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আর কি দেখা হবে না? তাই কি হয়! আর কি কথা হবে না? তাই কি হয়! কত কিছু বলবার আছে। কত কিছু জানাবার আছে। জীবনের তীব্র আন্ধকারের দিন কাটিয়েছি তোমার কথা ভেবে, তীব্র আলোর দিন কাটাবো তোমাকে সংগে নিয়ে।

  • আমি কখনও চিন্তা করি নাই আম্মাকে নিয়ে কিছু লিখতে পারবো। অনতিক্রমযোগ্য এ বেদনা আমার ধারণ ক্ষমতার বাইরে। বুকের চাপা ক্ষরণ স্বতত প্রবাহমান। আমার অস্তিত্ত্ব অনস্তিত্ত্বে বিলীয়মান…জানি না কেনো লিখলাম! এ জীবনের কতটুকুই আমরা জানি?


    প্রাচীনতায় বন্দী প্রহর ১ম পর্ব

    ১ম পর্বঃ

    “তখন আমার বাবা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী”, বলে দুধ চিনি ছাড়া কড়া রঙ চা এর কাপে সুড়ুক করে এক চুমুক দিয়ে ভদ্রলোক নড়েচড়ে বসলো। পুরনো রি-ভলভিং চেয়ারের মটমট প্রতিবাদকে বিন্দুমাত্র গ্রাহ্য না করে ভদ্রলোক বেশ আয়েশ করে হেলান দিয়ে অর্ধ-শতাব্দী প্রাচীন কৌলিন্যের গল্প শুনানোর আনাগত আনন্দে কিছুটা বিভর।

    ঘরের মাঝে চাপা গুমোট পরিবেশ। ভাদ্রের চটচটে আঠালো দিন। মাথার ঊপর বৃদ্ধ সিলিং ফ্যানটি বন্ধ। ভদ্রলোক এক বাহারী নামের অধিকারীঃ জনাব সৈয়দ শামসুল মোমিন চৌধুরী, কৃত্রিম বাতাস পছন্দ করেন না। তাই এই কুক্কুরি পাগলের দিনেও চাপ চাপ ভ্যাপসা গরমের মাঝে কূল কূল করে ঘেমে চলেছি।

    “ইন দ্যা ইয়ার নাইন্টিন ফিফটি ওয়ান”, বলে চৌধুরী সাহেব তার প্রাচীন গল্পের কথা মালার সুতায় আবার টান দিয়েছেন। বুঝে ফেললাম কঠিন এক গ্যাড়াকলে পড়েছি। এই ধরনের কিছু প্রাচীন বৃদ্ধ আছে যাদের প্রাগৈতিহাসিক আনন্দের গর্বের গল্পের ঝাঁপি নিয়ে ওৎ পেতে বসে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়।

    আমি হতাশ হয়ে রুমের এদিক-ওদিক তাকালাম। দেয়াল এবং ছাদ সাদা চুনকাম করা। অতিথিদের জন্য বয়সের কারনে ন্যুজ তিনটি কাঠের চেয়ার রয়েছে। যার একটিতে শিরঃদাড় সোজা করে বসে আছি। আমাদের মাঝে ক্ষুদ্রাকৃতির একটি টেবিল রয়েছে। মনে হলো যেন ঘরের সময় স্থির হয়ে আছে সেই ষাটের দশকে। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে মোটামুটি আঁতকে উঠলাম একটি মিটসেফ জাতীয় আসবাব দেখে। কমকরে হলেও ১৫/২০ বছর আগে মা-খালারা এই জাতীয় জিনিসের মধ্যে খাবার রাখতেন যার স্থান ছিলো রান্নাঘরে, যা কোনক্রমেই একটি অফিস ঘরে হতে পারে না। এথচ এই ভদ্রলোক হলেন একটি ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যাস্থাপনা পরিচালক এবং এই ঘুপচি ঘরটি হল তাঁর ব্যক্তিগত অফিস কক্ষ।

    ভদ্রলোক আমার বাবার পরিচিত সেই সুত্রে আমার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে উনার কাছে আসা। বাবাকে উনি অসম্ভব পছন্দ করেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হচ্ছে বিস্তর ইতিহাসের জ্ঞান আহরনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

    দূর্বল চেয়ারটির উপর গ্যাট হয়ে বসে অনাগত ক্লান্তিকর দীর্ঘ সময়ের জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম।

    (চলবে…)


    বাস যাত্রা

    আমি এবং আমার খালাতো ভাই রাতের বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসছি। পুরা বাস প্রায় খালি। সবমিলিয়ে মেরে কেটে ১০-১২ জন মানুষ হবে। আমরা তাই একবার এই সিটে আরেকবার ঐ সিটে বেশ আরাম করে হাত-পা ছড়িয়ে বসে যাত্রা করছি।

    রাত ৩ অথবা ৪টা। খালাতো ভাই সামনের সিটে। আমি মাঝের সারির তিন সিট নিয়ে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ গ্লাস ভাঙ্গার শব্দ এর সংগে সংগেই ভারী ধুপ শব্দ সবশেষে হেলপারের আর্ত চিৎকারে ঘুম ভাংলো।

    ঘটনা কি? খালাতো ভাই গভীর ঘুমে ছিলো। বাস রাস্তার বামদিকের গাছের ডালে বাড়ি খেয়ে উইন্ডশিল্ড ভেঙ্গে গিয়েছে। ড্রাইভার আচমকা ব্রেক কষাতে খালাতো ভাই উড়ে গিয়ে পরেছে হেলপারের গায়ে। যুগপৎ তিন শব্দের রহস্য উন্মোচন হলো।

    পরবর্তী ঘটনা কিঞ্চিত করুন। উইন্ডশিল্ড পরিদর্শণ শেষে দেখা গেলো হালকা চিড় ধরেছে কিন্তু হেলপার চিৎ হয়ে সিটের উপর ককাচ্ছে। বেচারার মুখ বেদনায় বিকৃত। আমার খালাতো ভাই বেশ কিছুটা পৃথুল ধরনের। বাকি ঘটনা আপনাদের সহজেই অনুনেয়।

    বাকি রাস্তা যাত্রীদের দোকানের চাল, মরার মতো ঘুম এবং ভারী ছুটন্ত বস্তুর বেগজনিত আলোচনা আমাকে ব্যাপক আনন্দ দিলেও খালাতো ভাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেঃ “হে ধরনী দ্বিধা হও”


    Cricinfo International Scores

    Get the latest

    [clearspring_widget title=”Cricinfo International Scores” wid=”487c7ca0a6ff2d91″ pid=”4a4f0dabdb8ce79e” width=”400″ height=”300″ domain=”widgets.clearspring.com”]


    টি-টোয়েন্টির সাজে টেষ্ট দর্শণ

    টেষ্ট ক্রিকেট অনেকটা ক্লাসিক ধ্রুপদী সংগীতের মতো। বুঝলে বিরাট সমঝদার। না বুঝলেও প্রকাশ না করা। পাছে আঁতলামীর সুযোগ যদি নষ্ট হয়ে যায়! টি-টোয়েন্টি টাইপ মানুষের সাথে টেষ্টকে গুলানো হলো কি হতে পারে এ সংক্রান্ত একটি গল্প মনে পরলো।

    ড্যানী ভাই আমাদের এক জিগরি দোস্তের বড় ভাই। আমাদের সাথেও কঠিন খাতির। অনেকটা বন্ধুর মতো। প্রচন্ড প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর একজন মানুষ।  কঠিন স্মার্ট এবং ফ্যাশেনবেল মানুষ। অলটাইম ফিট-ফাট। এ ব্যাপারে উনার থিউরী- কখন কোন মেয়ের চোখে পরে যান ঠিক নাই। তাই নো রিস্ক।

    একবার আমাদের ধানমুন্ডির ভারতীয় হাইকমিশনারের মিলনায়তনে এক ক্লাসিক সংগীত শিল্পীর পরিবেশনা হবে। ভারতীয় হাইকমিশনের এই সাংস্কৃতিক উইংএ আমাদের এক বড় ভাই চাকরী করেন। আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের ডাক দিলেন, “চলে আসো ব্যাপক ললনার সমাগম হবে।”

    ড্যানী ভাইও শুনে কঠিন মাঞ্জা মেরে মাথায় জেল দিয়ে চুল খাড়া, টাইট ফিটিং ঝকমকে কালো পার্টি শার্ট, কালো প্যান্ট, চকচকে লেদারের জুতো পরে হাজির। মানে পুরা ডিস্কো পার্টি সাজ। যেহেতু ক্লাসিক সংগীতের আমন্ত্রণ মূলক অনুষ্ঠান। সবাই পাঞ্জাবী-পায়জামা, মেয়েরা শাড়ি, মানে ধ্রুপদি অনুষ্ঠানের আবহ আর কি। বিপদ ঘটলো যখন ন্ড্যানী ভাই এই পোষাকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত। চরম বিব্রতকর অবস্থা। যেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সাজে টেষ্ট ক্রিকেট খেলতে উপস্থিত।

    অবস্থা প্রাথমিক চরমে গেলো যখন মিলনায়তন পুরা ভরে যাবার কারনে ড্যানী ভাইয়ের জন্য কোন সিট খালি পাওয়া গেলো না। পরবর্তী দৃশ্যঃ ড্যানী ভাই স্টেজের এক কোনায় বসে আছেন আমাদের আয়োজক বড় ভাইয়ের সাহায্যে। এ কেবল ড্যানী ভাই বলেই সম্ভব।সাড়া অঙ্গে চকচকে জামা-কাপড়। স্টেজে উনার উপস্থিতি সিরিয়াস দর্শকদের ব্যাপক ভ্রুকুটির জন্ম এবং আমাদের মতো ফিচেল দর্শকদের ব্যাপক আমোদ বিলাচ্ছে। “আআ-উউ-তেরে কেটে ধিননা” ইতাদি বোলে ক্লাসিক সংগীত চলছে। সমঝদাররা মাঝে মাঝে হাটুতে হাতের বাড়ি দিয়ে তাল ঠুকছেন। মুখে “বহত খুব, কেয়ামত” ইত্যাদি বোল চলছে। ড্যানী ভাই চকমকে সুরতে পুরা অডিয়েন্সকে নিজে দিকে ইতিমধ্যেই আকৃষ্ট করে রেখেছেন। উনি চিন্তা করলেন আমিও তো ক্লাসিক বুঝি এইটা বুঝানো দরকার। তাই ত্যাক্ত হয়ে এক পর্যায়ে উনিও তাল মেলালেন মুখে “বহত খুব, কেয়ামত” ইত্যাদি বোলের দ্বারা। ব্যাপারটার মধ্যে টাইমিঙ্গের ব্যাপার আছে। কখন বলার কথা এবং কখন চুপ থাকার কথা জানতে সত্যিকারের ক্লাসিক সংগীতের এলেম দরকার। পুরা হল চুপ এই অবস্থায় ড্যানী ভাইয়ের বে-টাইমের বোল মুখে “বহত খুব, কেয়ামত” ইত্যাদি শুনে মনে হলো হলে বোমা ফুটেছে। অবস্থা চুরান্ত বেগতিক।

    মনে হলো ধরিত্রী ফাক হয়ে যাক। কিন্তু ধরিত্রি অনড়। আমরা চিপা দিয়ে কেটে পরলাম। এক সন্ধ্যার জন্য যথেষ্ঠ হয়েছে। পিছনে ড্যানী ভাই তার চকমকে গেটাপ এক হল ভর্তি মানুষের রক্তচক্ষু নিয়ে বসে রইলেন। আমরা চলে আসার সময় শুনতে পাচ্ছিলাম গায়কেরঃ “পিয়া ঘার আয়ে…ও ও ও মেরে পিয়া ঘার আয়ে…” মনে হলো আসলেই ঘর আমাদের ডাকছে।


    বেশ গনতন্ত্র চর্চা হচ্ছে

    পশ্চিমা টাকায় ইরানের রাস্তায় বেশ গনতন্ত্র চর্চা হচ্ছে। ইরানী বিপ্লবের আগে যেরূপে সিআইএ, এমআইসিক্স এর অশরীরী গনতন্ত্রায়নের সুক্ষ কারুকার্য পত্রপল্লবিত হতো আজ সেই সুখের দিন নেই। তাই মুসাভি তুরুপের তাস। রাফসানজানীদের, সমাজের উচ্চস্তরের ধনকুবদের উচ্চলম্ফ। তাই কট্টর জাতীয়তাবাদী আহমেদিনিজাদ ঘৃণিত। ঢালো ডলার-পাউন্ড মাখো রক্ত। তরুনের আবাহন ফেসবুক-টুইটারে চলছে গনতন্ত্রায়নের শিক্ষা।

    মনে করিয়ে দেয় ইরাক আক্রমনের আগের দৃশ্যকল্প। অভিযোগ, গনতন্ত্রের গেলো গেলো রব। আজ ধর্ষিতা ইরাকের ধর্ষিতা নারী- কে শুনে কার চিৎকার ! আরেকটি গাড়ী বোমা। রক্তের সোদা গন্ধ আর মায়ের বুক বিদির্ণ চিৎকার ভারী বাতাস। ধুলোয় ধুসরিত রাস্তা। বেশ গনতন্ত্র চর্চা হচ্ছে।


    শিরোনাম বিহীন

    ভালোবাসা? সে তো খেল তামাশা
    প্রেম? সে তো দ্রোহের কাল।
    রোদে ঝকমকে রাংতা কাগজ
    আমার নির্লিপ্ত চিলেকোঠায়।